মুরাদনগরের কলেজগুলোতে ভর্তি নিয়ে বাড়ছে প্রতিযোগিতা

মমিনুল ইসলাম মোল্লা, মুরাদনগর।।
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ নতুন নীতিমালা প্রকাশ করেছে। এ বছরও এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। কোনো ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে না। আবেদন শুরু হবে ৩০ জুলাই থেকে এবং চলবে ১১ আগস্ট পর্যন্ত। তথ্য বাতায়ন অনুযায়ী, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় কলেজ রয়েছে ১১টি। এর মধ্যে সরকারি কলেজ মাত্র একটি শ্রীকাইল সরকারি কলেজ। কিন্তু এবছর মুরাদনগরে এসএসসি পাসের হার পঞ্চাশ শতাংশের নিচে নেমে আসায় কলেজগুলো কাক্সিক্ষত পরিমাণে শিক্ষার্থী ভর্তিতে সংকটে পড়েছে। তাই অধিক শিক্ষার্থী ভর্তির লক্ষ্যে বিভিন্ন কলেজ নানা কৌশল অবলম্বন করছে। কোথাও ব্যানার-পোস্টারে ছেয়ে গেছে হাইস্কুলের চারপাশ, আবার কোথাও কলেজ কর্তৃপক্ষ ডোর-টু-ডোর প্রচার চালাচ্ছে।
নিচে মুরাদনগরের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কলেজ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
১. বদিউল আলম ডিগ্রি কলেজ
কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পাশে কোম্পানীগঞ্জে অবস্থিত এই কলেজটি ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাবেক গণপরিষদ সদস্য আবুল হাশেম। ২০০৪ সালে তিনি উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হন। বর্তমানে কলেজটিতে ৩২ জন শিক্ষক ও প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। ২০১২ সালের ডিগ্রি পরীক্ষায় কলেজের ৩ জন শিক্ষার্থী প্রথম শ্রেণি অর্জন করে।
২. সামছুল হক কলেজ
১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী সামছুল হক। কলেজটি ২০০২ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কলেজের স্বীকৃতি পায়। কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর সড়কের কড়ইবাড়ী এলাকায় অবস্থিত কলেজটি এক মনোরম ক্যাম্পাসে গড়ে উঠেছে, যেখানে আরও একটি মাদ্রাসা, গার্লস হাই স্কুল, একটি কিন্ডারগার্টেন এবং আরও একটি কলেজ রয়েছে। এখানে ২২টি বিষয়ে পাঠদান করা হয় এবং রয়েছে পৃথক ছাত্রাবাস। উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯৯৯ সালে কুমিল্লা বোর্ডে আলাউল আকবর (মানবিক বিভাগে) ও সোমা চক্রবর্তী (ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে) ১০ম স্থান অর্জন করে।
৩. বাঁশকাইট রফিকুল ইসলাম মিঞা ডিগ্রি কলেজ
১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটির অবস্থান মুরাদনগরের দক্ষিণাঞ্চলে। এটি মোস্তফা কামাল প্রতিষ্ঠা করেন। কলেজটিতে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার কেন্দ্র রয়েছে।
৪. চাঁদমিয়া মোল্লা ডিগ্রি কলেজ
১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি মুরাদনগর সদর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার পশ্চিমে আলীরচর গ্রামে অবস্থিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর শামসুল হক মোল্লা এটি প্রতিষ্ঠা করেন। বিএ, বিএসসি, বিবিএস ও বিএসসি কোর্স চালু আছে এবং কলেজটির ফলাফল বরাবরই সন্তোষজনক।
৫. হায়দরাবাদ বেগম জাহানারা হক ডিগ্রি কলেজ
১৯৯৪ সালে আন্দিকুট ইউনিয়নের হায়দরাবাদ গ্রামে মো. সামছুল হক কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর সহধর্মিণীর নামে কলেজটির নামকরণ করা হয়েছে। ডিগ্রি শাখার পাশাপাশি এখানে বিএম ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচএসসি প্রোগ্রাম চালু আছে।
৬. বাইড়া আরিফ স্কুল অ্যান্ড কলেজ
কুমিল্লা-সিলেট রোডের সিএন্ডবি স্টেশনের পশ্চিম পাশে মনোরম পরিবেশে অবস্থিত এ প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৬ সাল থেকে কলেজ হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। এটি মুরাদনগরের অন্যতম স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
৭. কোড়েরপাড় আদর্শ ডিগ্রি কলেজ
১৯৯৫ সালে কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর সড়কের কোড়েরপাড় বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশে আলহাজ ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন (এফসিএ) এটি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর পিতা সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ হারুনুর রশিদের নামে একটি ভবন নির্মাণ করেন। দক্ষ শিক্ষকম-লীর তত্ত্বাবধানে কলেজটির শিক্ষার মান ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে।
৮. চাপিতলা ফরিদ উদ্দিন সরকার ডিগ্রি কলেজ
কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর সড়কের চাপিতলা বাসস্ট্যান্ডের পাশেই নিমাইজুড়ি নদীর তীরে ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মো. হাবিবুর রহমান সরকারের উদ্যোগে মাত্র ৫৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই কলেজে বর্তমানে ১২৫০ শিক্ষার্থী এবং ৪৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছে। এ কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার কেন্দ্র রয়েছে এবং ১৫ জন গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়।
৯. সুফিয়া খাতুন কলেজ
২০১৩ সালে বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নের দিঘিরপাড় গ্রামে এ কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন আলহাজ্ব সালাউদ্দিন আহমেদ বাদল। আশপাশের ১১টি গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় কলেজটি গড়ে উঠেছে। এটি নতুন হলেও ইতোমধ্যে স্থানীয় শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
১০. শ্রীকাইল সরকারি কলেজ

এটাই মুরাদনগরের একমাত্র সরকারি কলেজ। এটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
মুরাদনগরের কলেজগুলোতে এবছর এসএসসি পাসের হার কম থাকায় ভর্তি সংগ্রহে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান শূন্য আসন পূরণের জন্য মাঠপর্যায়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য এটি যেমন সুযোগ, তেমনি প্রতিষ্ঠানের জন্য টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ।