‘মুরাদনগরের সহিংসতায় আওয়ামী লীগের একটি অংশ জড়িত ছিল’

 

মহিউদ্দিন মোল্লা।।

ফেসবুকে পোস্টকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কোরবানপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে যে অগ্নিকাণ্ড ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, তা মূলত রাজনৈতিক ও নির্বাচনী গ্রুপিংয়ের কারণে। সাম্প্রদায়িক কোনো হামলা হয়নি। এ ঘটনায় বিএনপি, জামায়াতের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের একটি অংশও জড়িত ছিল। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গণশুনানিতে অংশ নেওয়া পূর্বধৈইর ইউনিয়নের জনগণ এসব কথা বলেন। এসময় গণশুনানিতে প্রায় ৬০০ মানুষ অংশ নেয়।

ঘটে যাওয়া সহিংসতার জেরে শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত গণশুনানি করেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম কমল। ৩২ জন লিখিত বক্তব্য দেন।
স্থানীয় তপন মিয়া বলেন, চেয়ারম্যানের বড় ভাই বেণু ভূষনের মতো চেয়ারম্যান বন কুমার শিবকে পুড়িয়ে মারার জন্যই বাড়িতে হামলা করা হয়। এ ঘটনায় বিএনপি, জামায়াতের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের একটি অংশও জড়িত ছিল। তারা সবাই মিলে পরিকল্পিত হামলা করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের প্রত্যেকের বিচার দাবি করেন তিনি।
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সুবেদার আবদুল আজিজ বলেছেন, চেয়ারম্যানের বাড়িতে যে ধরনের লুটতরাজ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। কারণ চেয়ারম্যান বনকুমার শিব দুইবার নির্বাচিত। এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা কেউ মেনে নিতে পারছে না।
স্থানীয় বাচ্চু ডাক্তার বলেন, আমাদের এলাকাটি ছিল সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। হঠাৎ করে কিছু লোক আক্রমণ করে তাতে ভাঙন ধরিয়েছে। আমি চাই এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক। হিন্দু-মুসলিম এখানে আগের মতোই সহাবস্থানে থাকুক।
গণশুনানিতে অংশ নিয়ে পূর্বধইর পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান বন কুমার শিব বলেন, শুরুটা সাম্প্রদায়িক ইস্যু নিয়েই ঘটেছিল। পরে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য এ সহিংসতা ঘটানো হয়েছে।
বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, তদন্তের কাজ এখনো শেষ হয়নি। কাজেই এখনো বলা যাচ্ছে না, ঘটনাটির মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
মুরাদনগরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম কমল বলেন, গণশুনানির মাধ্যমে আমরা ঘটনাটির তদন্তের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছি। প্রত্যেকের লিখিত বক্তব্য দেখে তা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে।
উল্লেখ্য-১নভেম্বর মহানবীকে (সা.) ব্যঙ্গ করে কোরবানপুর ও আন্দিকুটের দুইজন ব্যক্তি স্ট্যাটাস দিয়েছেন-এমন ঘটনা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে কোরবানপুরে বিক্ষোভ শুরু হয়। ওইদিন বিকেলে বাঙ্গরা বাজার থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন কোরবানপুরের ধনমিয়া নামের এক ইউপি সদস্য। রাতেই দুই অভিযুক্ত কোরবানপুর গ্রামের রায় মোহন দেবনাথের ছেলে স্থানীয় বøু বার্ড কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক শংকর দেবনাথ ও আন্দিকুট গ্রামের জীবন ভৌমিকের ছেলে অনিক ভৌমিককে আটক করে। ২নভেম্বর বিকেল ৩টায় কোরবানপুর বাজারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মসজিদের ইমামদের নিয়ে এ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানে মিটিং শুরু হয়। মিটিং চলাকালীন সময়েই শিক্ষক শংকর দেবনাথের বাড়িতে আগুন দেয় একদল লোক। এরপর কোরবানপুরের সাবেক চেয়ারম্যান বেণু ভূষণ শিবের স্মরণে তৈরি ভোজনালয়, মণিলালের বাড়ি, সূধন শিবের বাড়ি ও চেয়ারম্যান বন কুমার শিবের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে তারা। এসময় বাড়িতে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা লুট করা হয় বলে দাবি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় কোরবানপুর জিএম আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানসহ আটজনকে গ্রেফতার করেছে বাঙ্গরা থানা পুলিশ। ঘটনায় চার মামলায় এ পর্যন্ত প্রায় ১২শত লোককে আসামি করা হয়েছে।