চৌদ্দগ্রামে গো-খাদ্য সংকটে উদ্বিগ্ন খামারিরা
সানোয়ার হোসেন,চৌদ্দগ্রাম।।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জুড়ে গো-খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। গত বছরের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় উপজেলায় আমন রোপন ব্যাহত হয়। যার ফলে তীব্র খড় সংকট দেখা দেয়। কঙ্কালসার হয়ে পড়ছে আদর যতেœ পোষা গবাদিপশু। আর এতে উদ্বিগ্ন খামারিরা। বর্তমানে চড়া দামেও কিনতে পাওয়া যাচ্ছে না খড়। অনেক খামারি দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে চড়া দামে খড় কিনে আনলেও অধিকাংশ খামারি ও গৃহস্থরা বাধ্য হচ্ছেন গবাদিপশু বিক্রি করতে। যার প্রভাব পড়তে পারে আগামী কুরবানির ঈদে।
সূত্র জানায়.গবাদিপশুর প্রধান খাদ্য খড় ও ঘাস। গত বছরের বন্যায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘায়িত হওয়ায় পঁচে গেছে বাড়ির আঙ্গিনার খড় ও মাঠের ঘাস। আমন মৌসুম উঠে এলে সংকট কেটে যাবে আশা করেছিলেন খামারিরা। তবে চাহিদা বেশি হওয়ায় সংকট আরো বেড়েছে। শুধুমাত্র ভুষি, কুড়া খাইয়ে অধিক ব্যয়ে গবাদিপশু পালন অসম্ভব বলছেন মালিকরা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, উপজেলায় খামার আছে ৪৫৬টি। মোটাতাজাকরণ খামার আছে ১৩৭টি, ৩১৯ ছাগলের খামার ২৯ টি, ভেড়ার খামার ৩টি।
অন্যদিকে ভুষি ও চালের গুঁড়াসহ বিভিন্ন দানাদার গো-খাদ্যের দামও লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে। প্রতি বস্তা ভুষি ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালের গুঁড়া ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৫২০ টাকা হয়েছে। ধানের গুঁড়া প্রতি বস্তা ৫৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
মুন্সিরহাট ইউনিয়নের রাশু বেগম জানান , যে খড় গাদা হিসেবে কিনেছেন সেই খড় স্থানীয় বাজার থেকে এবার মুঠো আঁটি হিসেবে কিনতে হচ্ছে। প্রতি আঁটি ১৫/২০ টাকা দরে কিনি। গরু প্রতি দিনে একবার অল্প করে খড় খাওয়ালে দিন ১০ আঁটি লাগে।
খামারি পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর কামাল হোসেন জানান, ‘খড় কিনে আনি দিনাজপুর থেকে। এক ট্রাকে খড় আনতে খরচ পড়ে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। বেশি দামে খড় কিনে খাওয়ানোর কারণে গরু প্রতি খরচও বেড়ে গেছে অনেক। যাতে করে লোকসানও গুণতে হতে পারে এবার।’
উপজেলা কনকাপৈত ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের জোবায়ের হোসেন জানান ‘আমার দুইটি দুধের গাভীসহ মোট ছয়টি টি গরু ছিল। খড়েরের অভাবে চারটি গরু বিক্রি করে দিয়েছি।
উপজেলা পশুসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন (সাগর) জানান, ‘চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ও আশপাশের এলাকায় খড় নেই। খামারি গৃহস্থ কারো কাছে নেই। তাই উপজেলার কোনো খামারি গরু তুলছেন না খামারে। ঈদকে সামনে রেখে প্রতি বছর খামারিরা গরু সংগ্রহ করেন। এই খড় সংকটের কারণে প্রভাব পড়ার আশংকা রয়েছে। এতে করে আগামী কোরবানি ঈদে বাজারে গরু সরবরাহ কম হতে পারে আশঙ্কা করছেন।
তিনি আরো বলেন, ‘সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বন্যা-পরবর্তীকালে গো-খাদ্য বিতরণ করা হয়। নভেম্বরের ২৫ তারিখ ৩৬৫ জন খামারিকে ৭৫ কেজি করে গো-খাদ্য বিতরণ করা হয় ফুড এন্ড এগ্রিকালচার অর্গাইনেশনের পক্ষ থেকে। এছাড়া বেসরকারি ফিড ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে ২ টন গো-খাদ্য বিরতণ করা হয়।’