আখাউড়ায় ভারতের পাহাড়ি ঢলের পানি

 

ফজলে রাব্বি,আখাউড়া

টানা বৃষ্টি ও ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের পানিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মাথায় হাত পড়েছে মৎস্য চাষীদের। পানিতে তলিয়ে গেছে দেড় শতাধিক পুকুর। ভেসে গেছে এসব পুকুরের সব মাছ। দীর্ঘ শ্রম আর পুঁজিতে তিলে তিলে গড়ে তোলা পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ায় মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়েছে মৎস্য চাষীরা। কীভাবে এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠবে সেই ভাবনায় নির্ঘূম রাত কাটছে তাদের। মৎস্য অফিসের হিসেবে ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি টাকার বেশি। তবে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটিরও বেশি হবে।

জানা যায়, ১৭ জুন শুক্রবার দুপুর থেকে আখাউড়ায় বৃষ্টি শুরু হয়ে চলে সারারাত। পরদিন শনিবার বেলা বাড়ার সাথে সাথেই বৃষ্টি শুরু হয়। দিন ভর থেমে থেমে বৃষ্টি হয়। সেই সাথে উপজেলার সীমান্তবর্তী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসে পাহাড়ি ঢলের পানি। পানির তীব্র স্রোতে সীমান্ত এলাকার কর্ণেল বাজার সংলগ্্ন হাওড়া নদীর বাঁধ ভেঙ্গে একটি সড়কের প্রায় ৪০ ফুট অংশ ভেঙ্গে দ্বিখন্ডিত হয়ে যায়।

বৃষ্টির পানি আর উজানের পানিতে সীমান্ত এলাকার অন্তত ২০ টি গ্রামের নিমাঞ্চল প্লাবিত হয়। পানিতে তলিয়ে যায় উপজেলার মনিয়ন্দ, মোগড়া ও দক্ষিণ ইউনিয়নের প্রায় দেড় শতাধিক মাছ চাষের পুকুর। ফলে পুকুরের বিপুল পরিমাণ মাছ এবং পোনা ভেসে যায়। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবী করেছেন মৎস্য চাষীরা।

উপজেলা মৎস্য অফিস জানান, আখাউড়ায় ১০৯টি পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। এতে প্রায় ৯০ মেঃ টন মাছ এবং চার লাখ মাছের পোনা ভেসে গেছে। এতে এক কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। মনিয়ন্দ ইউনিয়নে প্রায় ৬০টি, মোগড়া ইউনিয়নে প্রায় ৩০টি এবং দক্ষিণ ইউনিয়নে প্রায় ২১টি পুকুর রয়েছে। এসব পুকুরে পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, কৈ, রুই, মৃগেল, কাতল সহ বিভিন্ন মাছ চাষ করা হয়।

সরজমিনে সোমবার দুপুরে মনিয়ন্দ ইউনিয়নে আইড়ল, লৌহঘর, খারকুট এলাকায় গিয়ে দেখা যায় ওই এলাকার বহু পুকুর পানিতে তলিয়ে গেছে। কিছু কিছু পুকুরে জাল ও বাঁশ দিয়ে বেস্টনিদেওয়া হয়েছে। বানের পানি কমতে থাকায় চাষীরা মাছ রক্ষায় কাজ করছে।

মোগড়া ইউনিয়নের নয়াদিলের মৎস্য চাষী মো. মনির মিয়া বলেন, আমার নয়াদিল উওরপাড়ার রেল ব্রিজ সংলগ্ন একটি পুকুরে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার পোনা ও ধনারচরের ২ টি পুকুরের প্রায় ১২ লক্ষ টাকার পোনা মাছ পানিতে ভেসে গেছে। পাশাপাশি কাঠ গাছ ও কলাগাছ এবং পেঁপে গাছের ক্ষতি হয়েছে।

জানতে চাইলে ছয়গড়িয়া গ্রামের মৎস্য চাষী জয়নাল মিয়া বলেন, ৫টি পুকুরে মাছ চাষ করেছিলাম। সবগুলো পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। আমার প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ছয়ঘড়িয়া গ্রামের আরেক মৎস্য চাষী মোঃ বাছির মিয়া বলেন, আমিও ১৯টি পুকুরে মাছ চাষ করেছি। ৬টি পুকুর পানির নিচে চলে গেছে। এতে আমার প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই।

এ ব্যপারে উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম বলেন, আমরা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে ক্ষতিগ্রস্থ মৎষ্য খামারীদের তালিকা করছি। ১০৯টি পুকুর পানিতে তলিয়ে গেছে। এক কোটির টাকার উপরে ক্ষতি হয়েছে বলে ধারনা করছি।