নারী দিয়ে ফাঁদ,র‌্যাব পরিচয়ে প্রতারণা

 

অফিস রিপোর্টার।।
নারীদের দিয়ে ফাঁদ পেতে কৌশলে মানুষকে জিম্মি করে র‌্যাব পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করতো তারা। এই সব অভিযোগে প্রতারক চক্রের তিন নারী ও দুই পুরুষকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এসময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত র‌্যাব জ্যাকেট উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১১ এর সিপিসি-২ কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান।

গ্রেফতারকৃতরা হলো কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার দক্ষিণ চর্থার শাহজাহান মিয়ার ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন(৩৫), সদর দক্ষিণ উপজেলার দিশাবন্দের সাহেব আলীর ছেলে জুম্মন মিয়া(২৫), চান্দিনা উপজেলার অম্বলপুর গ্রামের আলী আজগরের মেয়ে জোসনা আক্তার(২৫), আদর্শ সদর উপজেলার আড়াইওড়া গ্রামের মুছা মিয়ার মেয়ে হাসি আক্তার(২৪) এবং তার ছোট বোন মিন্নি আক্তার(১৮)।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ কোম্পানি অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন জানান, চক্রের সদস্য জুম্মন মিয়া মাছ ব্যবসায়ী। বিভিন্ন পেশার মানুষের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতো। পরবর্তীতে সহজ-সরল ব্যক্তিদের টার্গেট করে নারী সরবরাহ করতো। চক্রের অন্য সদস্য মো. আনোয়ার হোসেনসহ ৩-৪ জন প্রতারক চক্রের নারী সদস্য এবং ভুক্তভোগী পুরুষের একান্তে কাটানো মুহূর্তের ঘরে উপস্থিত হয়ে স্থিরচিত্র ও ভিডিও ধারণ করতো। র‌্যাব পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগী পুরুষের সাথে থাকা নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিত। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতো। এছাড়া তারা বিভিন্ন সময়ে র‌্যাব কুমিল্লা ক্যাম্পে অভিযোগ দেওয়ার নাম করে ভিতরে প্রবেশ করে ভুক্তভোগীকে ফোন করতো। ভুক্তভোগী র‌্যাব অফিসের সামনে আসলে সে ভিতর থেকে বের হয়ে বলতো স্যার ব্যস্ত আছে পরে কথা বলবে। বিভিন্ন সময়ে অফিসের বাইরে সেলফি তুলে সেগুলো ভুক্তভোগীদের প্রেরণ করতো। তাদের নিকট নিজেকে র‌্যাব সদস্য হিসেবে বিশ্বাস স্থাপন করাতো। ভুক্তভোগীরা র‌্যাব অফিসের ভিতরে টাকা প্রদান করতে চাইলে সে ভুক্তভোগীদের র‌্যাব অফিসের ভিতরে টাকা প্রদান করলে সে ক্ষেত্রে সকল র‌্যাব সদস্য বিষয়টি জেনে যাবে এবং এতে করে তার টাকা বেশি দিতে হবে বলে ভয় দেখাতো।

গত ৬ জানুয়ারি এক ভুক্তভোগী মৌখিকভাবে র‌্যাব কুমিল্লা ক্যাম্পে একটি অভিযোগ করে। র‌্যাবের পরিচয়ে একটি প্রতারক চক্র তার কাছ থেকে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ১০ জানুয়ারি রাতে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে প্রতারক চক্রের সক্রিয় তিনজন নারী সদস্যসহ মোট পাঁচজন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।