কবে চালু হবে কুমিল্লা-ঢাকা সরাসারি রেল

কমবে সময় ও খরচ,চাপমুক্ত হবে ঢাকা নগরী ও মহাসড়ক
মহিউদ্দিন মোল্লা।।
৪৫বছরেও আলোর মুখ দেখেনি কুমিল্লা-ঢাকা সরাসারি রেল যোগাযোগ। এনিয়ে বিভিন্ন সময় আন্দোলন ও দাবিতেও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের। তবে রেলের সূত্র দাবি করেছে,কুমিল্লা -ঢাকা সরাসরি কর্ডলাইনের নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাছাইয়ে মাঠ পর্যায়ের জরিপ চলছে। কুমিল্লাবাসীর অভিমত, কুমিল্লা-ঢাকা সরাসারি রেল যোগাযোগ স্থাপিত হলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। কম সময় ও খরচে যাতায়াত করতে পারবে। চাপ কমবে স্থলপথে। কুমিল্লা ও আশপাশের চাকরিজীবীরা এলাকায় থেকে ট্রেনে যাতায়াত করতে পারবে ঢাকায়। এতে ঢাকা শহরে চাপ কমবে। এদিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দূরুত্বও কমে আসবে। চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পরিবহন সহজ হবে।
বিভিন্ন সূত্রমতে,২০২৪ সালের নভেম্বর মাসের শেষ দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ রেলওয়ের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-কুমিল্লা কর্ডলাইন প্রকল্প নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা নতুন সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার দিকে এগোচ্ছে। ঢাকা-কুমিল্লা দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০কিলোমিটার। এখন রেলপথের আখাউড়া,ভৈরব,নরসিংদী,গাজীপুর ২০০ কিলোমিটার বাড়তি পথে ঢাকা যেতে হয়। ঘুরপথ বাদ দিয়ে কুমিল্লা থেকে বুড়িচং, দাউদকান্দি ও নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকা পর্যন্ত রেলপথকে মাত্র ১০০ কিলোমিটারে নামিয়ে আনা সম্ভব।
সূত্র আরো জানায়, আশির দশকে ট্রেনে ঢাকা-চট্টগ্রামের দূরত্ব কমাতে ঢাকা-লাকসাম কর্ডলাইন প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন হয়েছিল। ১৯৯০ সালে এরশাদের পতনের পর প্রকল্পটি থমকে যায়। সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক ২০১৫ সালের একটি ঘোষণায় ঢাকা-লাকসাম কর্ডলাইনের পরিবর্তে দাউদকান্দি হয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-কুমিল্লা সরাসরি রেললাইন স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে সত্যিকার অর্থে এ দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতো।
কুমিল্লা কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির মাসউদ বলেন, কুমিল্লা-ঢাকা সরাসারি রেল যোগাযোগ দাবিটি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত। এটি সময়ের দাবি। বার বার বলা হচ্ছে এটি বাস্তবায়ন হবে, কিন্তু সেটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখছে না। আমাদেরকে কেন চার জেলা ঘুরে ঢাকা যেতে হবে। যেন মানুষের সময়ের কোন দাম নেই। এটি চালু হলে এক ঘন্টার মধ্যে ঢাকায় যাওয়া যাবে। সবার ঢাকায় থাকতে হবে কেন? দিনে দিনে ঢাকায় আসা যাওয়া করা যাবে। এতে ঢাকার উপর চাপ কমবে।
কুমিল্লা জাদুঘরের পরিচালক নাজমুল আবেদীন বলেন,কুমিল্লা থেকে বাসে ঢাকা যেতে দুই ঘন্টা সময় লাগে। ট্রেনে ঘুরপথে গেলে লাগে ৫ঘন্টা লাগে। এজন্য কুমিল্লার মানুষ ট্রেনে ঢাকা যেতে চান না। কুমিল্লা-ঢাকা সরাসরি রেল যোগাযোগ চালু হলে মহাড়কে চাপ কমবে।
বিএমএ কুমিল্লার সাবেক সভাপতি ডা. ইকবাল আনোয়ার বলেন,আমরা দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছি,কুমিল্লা-ঢাকা সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপন হবে। কিন্তু এটির কোন খবর নেই। এটি চালু হলে এখন যে দুই ঘন্টা সময় বেশি লাগে সেটি কমবে। এতে যোগাযোগে নতুন দিগন্তের সৃষ্টি হবে। এটি এতদিন কেন বাস্তবায়ন হলো না তা আমার বোধগম্য নয়।
রেলওয়ে কুমিল্লার ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী(পথ) লিয়াকত আলী মজুমদার বলেন, কুমিল্লা থেকে ঢাকা সরাসরি কর্ডলাইন স্থাপনের মাঠ পর্যায়ের জরিপ চলছে। সেটি কুমিল্লার বানাশুয়া রেল ব্রিজের পাশ দিয়ে বুড়িচং হয়ে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা গিয়ে মিলতে পারে। এই রুটের জরিপের কাজ শেষ পর্যায়ে। এরুট চালু হলে কুমিল্লা থেকে ঢাকার দূরুত্ব ২ ঘন্টা কমে যাবে। আগে সাড়ে তিন ঘন্টা লাগতো। এখন লাগবে দেড় ঘন্টা। এতে যাত্রী সাধারণ দ্রুত সময়ে ঢাকা যাতায়াত করতে পারবেন।
