১৮মামলার আসামিকে কুপিয়ে হত্যা, বেঁচে যায় ২৭ মামলার আসামি অপু!

 প্রতিনিধি।।
কুমিল্লায় নগরীতে আধিপত্য বিস্তারের জেরে ১৮মামলার আসামি মহরম হোসেন (৩৫) নামে এক যুবককে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সেই মোটর সাইকেলে থাকা ২৭মামলার আসামি অপু হোসেন (৩৪) ছিলেন অক্ষত। সন্দেহজনক হিসেবে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ ধারণা করছে হত্যার পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন অপু। এ ঘটনায় নিহতের বোন রুনু বেগম বাদী হয়ে অপুসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে আজ্ঞাতনামা আরও ৭ জনকে আসামি কওে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) কর্মকর্তা মহিনুল ইসলাম রবিবার ্এই তথ্য জানান। গ্রেফতার অপু হোসেন নগরীর কাটাবিল এলাকার মৃত শাহজান মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, নিহত মহরমের বিরুদ্ধে মাদক, হত্যা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তত ১৮টি মামলা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাদক কারবার নিয়ে দ্বন্দ্বে এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছে। মহরম কুমিল্লা নগরীর মুরাদপুর এলাকার চারু মিয়ার ছেলে। তিনি শ্বশুরবাড়ি কাটাবিল এলাকায় ভাড়া থাকতেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে ১১ বছরের এক মেয়ে ও ৭ বছরের এক ছেলে রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানায়, মহরম ও তার বন্ধু অপু শনিবার (৩০ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে নগরীর কাটাবিল মসজিদের সামনে মোটরসাইকযোগে পাথুরিয়াপাড়ার যাচ্ছিলেন। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাদের ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয় মহরমকে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবু অপু অক্ষত ছিলেন।
নিহত মহরমের স্ত্রী শারমিন আক্তার বলেন, পরিকল্পিতভাবে মহরমকে হত্যা করা হয়েছে। খুনিরা আমার সব শেষ কইরা দিল। অহন আমি কি লইয়া থাইক্কাম? আমার দুইটা পোলা-মাইয়া। অহন আমি কই যাইয়াম তারারে লইয়া। আমার তো সব শেষ হইয়া গেল।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) কর্মকর্তা মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, মাদক কারবার সংক্রান্ত দ্বন্দ্বে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে এটি ছিল পূর্ব পরিকল্পিত। হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধেও ২৭টি মামলা রয়েছে। বাকীদেরও ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

inside post
আরো পড়ুন