দাউদকান্দিতে পল্লী চিকিৎসকের ওষুধ খেয়ে ঝলসে গেছে শিশুর দেহ

আমোদ  প্রতিনিধি।।
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এক পল্লী চিকিৎসকের দেয়া ওষুধ খেয়ে ঝলছে গেছে পাঁচ মাস বয়সী এক শিশুর শরীর। এঘটনার পর আজ বৃহস্পতিবার দীপক চন্দ্র নন্দী (বাবু) নামে ওই পল্লী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করে শিশুর চাচা মো. ফিরোজ সিকদার। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে শিশুর চাচার অভিযোগটি আমলে নিয়ে দুপুরে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদ আল হাসান।
জানা গেছে, উপজেলার বিটেশ্বর ইউনিয়নের বীরবাগগোয়ালী গ্রামের প্রবাসী মো. কামরুল হাসানের স্ত্রী সাহারা আক্তার তার পাঁচ মাস বয়সী শিশু মো. আবরার হোসেন অসুস্থ হলে গত শনিবার(১২ মার্চ) স্থানীয় নৈইয়ার বাজারের নন্দী ফার্মেসীতে নিয়ে যান। ফার্মেসীর মালিক পল্লী চিকিৎসক দীপক চন্দ্র নন্দী (বাবুর) দেয়া শনিবারের ওষুধে অবস্থার কোন উন্নতি না হওয়ায় পরদিন রবিবার (১৩ মার্চ) আবারও সেখানে নিয়ে যান। রবিবারের দেয়া ওষুধ খাওয়ার পরদিন শিশুটির পুরো শরীরে ঠোসা পড়ে যায়। শরীরের অনেক অংশের চামড়া উঠে যায়। দেখতে ঝলসে যাওয়ার মতো অবস্থা শিশুটিকে ঢাকার মাতুয়াইল শিশু হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সে বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শিশুর মা সাহারা আক্তার বলেন, কোন মানুষ আগুনে পুড়লে যেমন হয়, দীপক চন্দ্র নন্দী ডাক্তারের ওষুধ খেয়ে আমার বাচ্চার অবস্থা এখন তেমন হয়েছে। এখন আমার বাচ্চা সারাদিনে একবারও চোখ খোলে না। আমি ওই পল্লী চিকিৎসকের বিচার দাবি চাই, যেন অন্য কোন বাচ্ছার সাথে এমন না করতে পারে।
শিশুর চাচা মো. ফিরোজ সিকদার বলেন, নন্দী ডাক্তারের ওষুধ খাওয়ার পর আমার ভাতিজার শরীরটায় হঠাৎ ঠোসা পড়ে যায়। আমি দ্রুতই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করাই। সেখানে যাওয়ার পর ডাক্তার বলে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু আজ তিন দিন গেলো ভাতিজার শরীরটা ঠিক হয়নাই।
এ ঘটনার বিষয়ে পল্লী চিকিৎসক দীপক চন্দ্র নন্দী (বাবু) বলেন,  আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে গরমে শিশুটির শরীরে ছোট ছোট গোটার মতো হয়েছে। প্রথম দিনের ওষুধে ভালো না হওয়ায় এ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দিয়েছিলাম। আমার কাছে যখন এসেছিল তখন তার শরীরটা লাল ছিল। পরে আমি তাকে ওষুধ দেই। এটা অপ্রত্যাশিতভাবে হয়ে গেছে।
দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদ আল হাসান বলেন, আমরা তদন্ত কমিটিতে শিশু বিশেষজ্ঞ রেখেছি। উনারা সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেবেন। তারপর ওই পল্লী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।