খাবার ও চিকিৎসা সংকটে প্রতিবন্ধী ইমরানের দুর্বিষহ জীবন

ভিক্ষা নয় ফেরত চান পরিবারের সম্পত্তি
মহিউদ্দিন মোল্লা।।
হাত পাততে ইচ্ছুক নন তিনি। তার নিজের সম্পত্তি ফেরত চান। তিনি ইমরান হোসেন এমরান। বয়স ৫১ বছর। বাসা কুমিল্লা নগরীর তেলিকোনা গোবিন্দপুকুরপাড়ে। মাথার অংশ ছাড়া শরীরের প্রায় পুরোটা অচল। হাত কিছুটা নাড়াতে পারেন, তবে তেমন নিয়ন্ত্রণ নেই। ৪বছর বয়সে মা জাহানারা বেগম ও ১৬ বছর বয়সে বাবা তোফাজ্জল হোসেন ওরফে গোলাম হায়দারকে হারিয়েছেন। না পারছেন খাবার জোগাতে, না চিকিৎসা করাতে। নানার বাড়িতে তার মায়ের ক্রয় করা সম্পত্তি মামা ও মামাতো ভাইয়ের দখল করে রেখেছেন বলে তিনি দাবি করেন। তিনি চান সম্পত্তি গুলো দখলমুক্ত করতে। জমির আয় থেকে চিকিৎসা ও ভরণপোষণ মেটাতে।
ইমরান জানান,তার নানার বাড়ি চাঁদপুর হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার মুকিমাবাদে। নানা আবদুল লতিফ। নানার বাড়িতে তার মা জাহানারা বেগম সেখানে প্রায় ৪শতক জায়গা ক্রয় করেন ৬দশক আগে। এছাড়া নানার সম্পত্তির অংশ পাবেন প্রায় আধা শতক। এ সম্পত্তির বর্তমান বাজার মূল্য কোটি টাকার বেশি। সম্পত্তি উদ্ধারে তিনি মামার পরিবারের বিরুদ্ধে চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
ইমরান হোসেনের বাসায় দেখা যায়,তিনি হুইল চেয়ারে বসা। ভরাট চেহারা। হাসিমাখা মুখ। দেখলে মনে হবে সুস্থ মানুষ। সামনে একটি ট্রাইপডে মোবাইল ফোন লাগানো। ফোনে কল দিয়ে তিনি স্বজনদের ঢেকে এনে তার চাহিদা পূরণ করেন। তিনি কারো সাহায্য ছাড়া বিছানায়ও উঠতে পারেন না। স্বজনের সহযোগিতায় বিছানায় গেলেও শরীর নাড়াতে পারেন না। তার পায়খানা প্রশ্রাবেরও কোন নিয়ন্ত্রণ নেই।
ইমরান হোসেন বলেন, ২০১০সালে দক্ষিণ কুরিয়ার ইয়াংজুসি শহরে কাজ করতেন। ঘাড়ে ব্যথা পাওয়ার পর তনদুচন শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। ৬বছর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেখানে টাকা বকেয়ার জন্য হাসপাতাল থেকে রোগী নামিয়ে দেয় না, তবে কম খরচের হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। দূতাবাস,বিদেশি কমিউনিটির সহযোগিতায় অর্ধমৃত ইমরান ২০১৭সালে দেশে ফিরে আসেন।
দুই বোন তাহমিনা বেগম ও শামীমা আক্তার বলেন,আমার মামা ও মামাতো ভাইয়েরা মায়ের ক্রয় করা সম্পত্তি ও ওয়ারিশ অংশ দখল করে রেখেছে। সম্পত্তি ফিরে পেলে আমার ভাই ও আমাদের উপকার হতো। বিশেষ করে আমার ভাইয়ের অবস্থা খুব খারাপ। তাকে ভালো চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজন। এছাড়া তার পরিবারের ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সমাজ সেবক মাজেদুল হক চৌধুরী বলেন.ইমরান আমাদের প্রতিবেশী। তার অল্প বয়সে বাবা-মা মারা যান। সে বিদেশে গিয়ে পঙ্গু হয়ে দেশে আসে। তার খাবার ও চিকিৎসার অনেক কষ্ট হচ্ছে। তার মায়ের ক্রয় করা সম্পত্তি ফিরে পেলে অনেক উপকার হবে।
ইমরানে ৫মামার মধ্যে বেঁচে আছেন দুধ মিয়া। তাকে ফোনে যোগাযোগর চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।
মামাতো ভাই মো. শাহ আলম বলেন, সম্পত্তি নিয়ে তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে তিনি জানেন না। ইমরান তাদের ফুপাতো ভাই। তার কাগজপত্র থাকলে সে সম্পত্তি পাবে এতে কোন সমস্যা নেই। এনিয়ে তিনি আর বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি।
